Homeসারাদেশপ্রভাবশালীদের দখলে থাকা সরকারি খাল উদ্ধারে সরাইল উপজেলা প্রশাসনের অভিযান

প্রভাবশালীদের দখলে থাকা সরকারি খাল উদ্ধারে সরাইল উপজেলা প্রশাসনের অভিযান

 

ফরহাদ ইসলাম স্বাধীন
উপজেলা প্রতিনিধি (সরাইল), ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নিজ সরাইল গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের দখলে থাকা সরকারি খাল উদ্ধারে অবশেষে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। বহু বছর ধরে দখল, ভরাট ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়া খাল পুনরুদ্ধারে ১২ মে ২০২৬ ইং তারিখে সরেজমিনে অভিযান পরিচালনা করেন সরাইল উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম (ইউএনও)। এ সময় প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রায় ৫৫ ফুট খাল উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো খাল পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় নিজ সরাইল গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই খালটি এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বর্ষা মৌসুমে আশপাশের গ্রামের পানি দ্রুত প্রবাহিত হয়ে খাল দিয়ে নিষ্কাশন হয়ে যেত। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে একটি প্রভাবশালী মহল খালের বিভিন্ন অংশ দখল করে মাটি ভরাট, দোকানঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করায় খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে খালটি সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং অনেক স্থানে প্রায় অস্তিত্ব সংকটে পৌঁছে যায়।

এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে থাকে। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আশপাশের বাড়িঘর, রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে যায়। দুর্ভোগে পড়েন শত পরিবার ও সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও কর্মজীবী মানুষদের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। অনেক পরিবারের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ে নষ্ট হয় আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। স্থানীয় কৃষকরাও ক্ষতির মুখে পড়েন, কারণ জমিতে দীর্ঘসময় পানি জমে থাকায় ফসল বাড়িতে নিয়ে আসতে ব্যাহত হচ্ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালটি একসময় এতটাই প্রশস্ত ছিল যে সহজেই নৌকা চলাচল করত এবং বর্ষার পানি দ্রুত নেমে যেত। কিন্তু দখলদারদের কারণে খালের স্বাভাবিক রূপ হারিয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী খালটি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিভিন্ন সময় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ ছিল স্থানীয়দের।

পরিস্থিতির অবনতি হলে সম্প্রতি এলাকাবাসী মানববন্ধন, প্রতিবাদ কর্মসূচি ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও খাল পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেন।

অভিযান চলাকালে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি খাল, জলাশয় ও পানি প্রবাহের পথ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখলে থাকতে পারে না। জনস্বার্থে এসব সরকারি সম্পদ রক্ষা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। তারা বলেন, খাল উদ্ধার করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবৈধভাবে দখল করা সব অংশ উচ্ছেদ করে পুরো খাল পুনরুদ্ধার করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন,
“সরকারি খাল জনগণের সম্পদ। কোনোভাবেই এটি দখল করে রাখা যাবে না। খাল উদ্ধার হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে এবং জলাবদ্ধতা কমে আসবে। আমরা পর্যায়ক্রমে পুরো খাল পুনরুদ্ধার করবো। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

এদিকে প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেন, দীর্ঘদিন পর হলেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। খালটি পুরোপুরি উদ্ধার করা গেলে এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে যাবে, বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও কৃষিজমি সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই উদ্যোগ।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, শুধু নিজ সরাইল গ্রাম নয়, সরাইল উপজেলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি খাল, জলাশয় ও পানি প্রবাহের পথ দখল হয়ে আছে। এসব দখলদারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে এবং পরিবেশ রক্ষা পাবে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দখল হয়ে যাওয়া সরকারি খাল, পুকুর, জলাশয় ও পানি প্রবাহের পথ পর্যায়ক্রমে উদ্ধার করা হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের উচ্ছেদ ও পুনরুদ্ধার অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments