নিজস্ব প্রতিবেদক : (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়িতে পুলিশের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে বড় সাজ্জাদ বাহিনীর দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, খুনি-চাঁদাবাজ কালা মোবারক’সহ ৪ জন গ্রেফতার। এ’সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম এর দিক-নির্দেশনায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রয়েছে।
তারই ধারাবাহিকতায় গত (১৩ জুন) চট্টগ্রাম জেলার পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত বিএনপি নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ নিবিড় তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
ইতোমধ্যে পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাসুদ হত্যা মামলায় সরাসরি জড়িত আসামি আফসার, ধামা ইলিয়াস ও দিদার নামীয়দেরকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অন্যতম কমান্ডার ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন’সহ বাহিনীটির সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
“পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীদের গুলি, আত্মরক্ষার্থে পুলিশের পাল্টা গুলি”
(২৬ আগস্ট) ভোররাতে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ফটিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ ও সঙ্গীয় অফিসার-ফোর্স ফটিকছড়ি থানাধীন লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় ওয়াজ পল্লানের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্রধারী মোবারক ও তার সহযোগীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে এবং সরকারি অস্ত্র ও পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাল্টা গুলি চালান। ফলে পুলিশ ও সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী কালা মোবারক’সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ’সময় তাদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
“হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভিতে শনাক্ত কালা মোবারক”
গ্রেফতারকৃত মুহাম্মদ মোবারক হোসেন ওরফে কালা মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারক (৩৭) পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাসুদ হত্যা মামলার সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্তকৃত আসামি। ওই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে উদ্ধার হওয়া (9mm) বিদেশি তরাস পিস্তলটি (ব্রাজিলের তৈরি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার লুটকৃত সরকারি অস্ত্র বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। অস্ত্রটির উৎস এবং কীভাবে এটি অপরাধীদের হাতে পৌঁছেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃত মোবারক শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাদের প্রধান শুটার হিসেবে পরিচিত। অস্ত্র পরিচালনায় সে ব্যাপক পারদর্শী। সে একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, খুনি ও চাঁদাবাজ। তার বিরুদ্ধে ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের মাসুদ হত্যা এবং নগরের সরোয়ার বাবলা হত্যা’সহ একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। বড় সাজ্জাদের নির্দেশে সংঘটিত প্রায় সকল খুন ও চাঁদাবাজির ঘটনায় এই মোবারক নিজেই উপস্থিত থেকে গুলি করত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি বড় সাজ্জাদের নির্দেশের বাইরেও ফটিকছড়ি ও আশপাশের এলাকায় সে নিজস্ব ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।
অভিযানে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ
১। ১টি (9mm) বিদেশি তরাস পিস্তল (ব্রাজিলের তৈরি),২। ১টি (7.65 mm) বিদেশি পিস্তল (ইতালির তৈরি),৩। ১টি বিদেশি রিভলবার (পাকিস্তানের তৈরি),৪।১টি দেশীয় পিস্তল, ৫। ১৮ রাউন্ড (9mm) পিস্তলের গুলি,৬। ৫ রাউন্ড (7.65 mm) পিস্তলের গুলি,৭। ৩টি পিস্তলের ম্যাগাজিন,৮। ৩টি পিস্তলের গুলির খোসা,৯।৪টি শটগানের গুলির খোসা
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন,১। মুহাম্মদ মোবারক ওরফে কালা মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারক (৩৭)
পিতা- মো. লোকমান
ঠিকানা- হাছি চৌধুরীর বাড়ি, সাং- মানিকপুর, ৪ নং ওয়ার্ড, কাঞ্চনগর ইউনিয়ন, থানা- ফটিকছড়ি, জেলা- চট্টগ্রাম,২। মোহাম্মদ রাইহান ওরফে রায়হান (৪০) (শিবির বাবুলের ফুফাতো ভাই)
পিতা- বদিউল আলম,ঠিকানা- ওয়াজ পল্লানের বাড়ি, দিঘির পাড়, শাহনগর, লেলাং ইউনিয়ন, থানা- ফটিকছড়ি, জেলা- চট্টগ্রাম,৩। মো. ফরিদ (৫০)
পিতা- মৃত আমির হোসেন,ঠিকানা- ওয়াজ পল্লানের বাড়ি, শাহনগর পল্লানপাড়া, লেলাং ইউনিয়ন, থানা- ফটিকছড়ি, জেলা- চট্টগ্রাম,৪। মো. নাছির (৫২)
পিতা- মৃত শমসু সওদাগর,ঠিকানা- ওয়াজ পল্লানের বাড়ি, শাহনগর পল্লানপাড়া, লেলাং ইউনিয়ন, থানা- ফটিকছড়ি, জেলা- চট্টগ্রাম।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম বলেন,আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নির্মূল এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। অপরাধী যতই শক্তিশালী বা দুর্ধর্ষ হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।