Homeচট্টগ্রামচট্টগ্রাম ১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত মনোনয়নে তৃনমুলের ক্ষোভ

চট্টগ্রাম ১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত মনোনয়নে তৃনমুলের ক্ষোভ

মো. তৌহিদ/ নিজস্ব প্রতিবেদক: (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীদল (বিএনপি’র) প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্তে তৃনমুলের ক্ষোভ।

বিশেষ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিএনপির কেন্দ্র থেকে চূড়ান্ত তালিকায় প্রার্থী হিসেবে প্রকাশ হয় ২০২৪ সালে আওয়ামীলীগের আমলে নির্বাচিত চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন আহমেদ।

স্হানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন ছিলেন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক তথ্য মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সাবেক আইজিপি ড. বেনজির আহমেদ’সহ উপরোক্ত পলাতক নেতাদের ঘনিষ্ঠ ও একনিষ্ঠ ভাজন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী জসিম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপী মামলায় পরোয়ানা জারি হলে অদৃশ্য কোন ছাঁয়ার কারণে বেঁচে যান তিনি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ।

স্হানীয়দের সূত্রে পাওয়া তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায় উপরে উল্লেখিত স্বৈরাচারের প্রভাবশালী নেতারা’সহ আরো অনেকের সাথে ঘনিষ্ঠ সখ্যতার কিছু স্থিরচিত্র।

ওই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় ছিলেন প্রথম পর্যায় তালিকায় নাম আসা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীদল (বিএনপির) নির্বাহী কমিটির পরিবার ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ডা: মো. মহসিন জিল্লুর রহমান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড: নাজিম উদ্দিন, সাবেক বিচারপতি আব্দুস ছালাম মানুন, বাংলাদেশ ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হাশেম (রাজু),চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম রাহী।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রকাশিত বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকায় জসিমের নাম আসার পর সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখিত মনোনয়ন প্রত্যাশী ও স্হানীয় তৃণমূলের মাঝে নানান ক্ষোভ ও সমালোচনা।

জসিম উদ্দিনকে মনোনীত করে তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম রাহী নিজের ভেরিফাই ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন যা হুবহু তুলে ধরা হলো।
আমাদের বাংলাদেশের আগামীর স্বপ্নদ্রষ্টা জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এক নতুন রাজনৈতিক অভিযাত্রার স্বপ্ন দেখছে—>
যে অভিযাত্রায় স্বৈরাচারের কোনো স্থান নেই, যেখানে ত্যাগ, আদর্শ ও জনগণের আস্থা হবে নেতৃত্বের একমাত্র মানদণ্ড|
এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রধান শক্তি হলো মাঠের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা
কিন্তু চরম বিস্ময় ও গভীর ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক ) সংসদীয় আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে এমন একজন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যিনি এলাকাবাসীর কাছে বিগত স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে পরিচিত।
এই সিদ্ধান্ত শুধু রাজনৈতিকভাবে অগ্ৰহণযোগ্য নয়, বরং এটি তারেক রহমান ঘোষিত নতুন ধারার রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক|
এখন সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন হলো—
কারা, কোন উদ্দেশ্যে তারেক রহমানকে বিভ্ৰান্ত করে বা ভুল
তথ্য দিয়ে এই প্রশ্নবিদ্ধ মনোনয়ন আদায় করে নিয়েছে?> যাঁরা ত্যাগী নেতাকর্মীদের কণ্ঠ রোধ করে, অর্থ ও প্রভাবের জোরে এমন সিদ্ধান্ত কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁরাই মূলত দলের ভেতরে লুকিয়ে থাকা বিষফোঁড়া|
এরাই দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আমরা জোরালোভাবে দাবি জানাই—
তারেক রহমানকে ভুল তথ্য দিয়ে বা ভিন্ন উদ্দেশ্যে এই
মনোনয়ন আদায়কারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
কারণ নেতৃত্ব ভুল করে না-ভুল করানো হয়।
আর সেই ভুল করানোর কারিগরদের চিহ্নিত না করলে আগামীর বাংলাদেশ নিৰ্মাণ ব্যাহত হবে।
আমরা কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণে বিশ্বাসী নই। কিন্তু স্বৈরাচারের দোসর ও সুবিধাবাদীদের ধানের শীষের ছায়ায় ঠাঁই দেওয়া কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। ত্যাগীদের রক্ত-ঘামে গড়া দলকে রক্ষা করতে হলে এই বিষফোঁড়াগুলো অপসারণ করাই সময়ের দাবি।
নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আজ আপসহীন অবস্থানই সবচেয়ে বড় প্ৰয়োাজন।
আমার/আমাদের বিশ্বাস তারেক রহমান চট্টগ্রাম ১৪ আসনের মনোনয়ন পূণর্বিবেচনা করবেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments