Homeচট্টগ্রামট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী বাকলিয়ার ‘ত্রাস’ ভোলা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার

ট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী বাকলিয়ার ‘ত্রাস’ ভোলা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক :(চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানাধীন রাজাঁখালী সিএমপির তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা’কে গ্রেপ্তার করছেন পুলিশ।

শীর্ষ সন্ত্রাসী ভোলা বাকলিয়া থানা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত। তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী এহতেশামুল হক ওরফে হানিফুল হক ওরফে ভোলা (৪৮) কে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নগরীর বাকলিয়া থানাধীন কল্পলোক এলাকা থেকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) গ্রেপ্তার করে। ভোলার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ মোট ১৮টি মামলা রয়েছে। তিনি আলোচিত সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম (মিতু) হত্যা মামলারও অন্যতম আসামি।
বাকলিয়া থানা পুলিশ সূত্র ভোলাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ আরো জানায়, গ্রেপ্তার ভোলা বাকলিয়া রাজাখালী বিশ্বরোড এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত সিরাজুল হকের ছেলে। নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একজন হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাকলিয়া এলাকায় সক্রিয় ছিলেন। সেখানে তার নিজস্ব একটি সন্ত্রাসী বাহিনী ছিল বলে পুলিশের কাছে তথ্য আছে।

পুলিশের তথ্যমতে, ভোলার বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানায় ১১টি, বাকলিয়া থানায় ৬টি ও পাঁচলাইশ থানায় ১টিসহ মোট ১৮টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে রয়েছে অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, হত্যা, হত্যা চেষ্টা, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের অভিযোগ। কয়েকটি মামলায় তার সাজা হলেও অনেক মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।

ভোলা এর আগেও চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষিকা অঞ্জলী রানী দেবী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ২০১৫ সালের ১০ জানুয়ারি পাঁচলাইশ থানার তেলিপট্টি এলাকাস্হ নিজ বাসার সামনে দুর্বৃত্তদের হামলায় অঞ্জলী রানী দেবী নিহত হন। ওই ঘটনায় তার স্বামী ডা. রাজেন্দ্র চৌধুরী পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন।ওই মামলার তদন্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের কাছে ন্যস্ত করা হয়।

এছাড়াও ২০১৬ সালের ৫ জুন নগরীর ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। ওই সময় তার স্বামী বাবুল আক্তার এসপি পদে পদোন্নতি পেয়ে ঢাকায় নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছিলেন।

মিতু হত্যায় ও ভোলার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।
মিতু হত্যাকাণ্ডের ২৩ দিনের মাথায় পুলিশ ভোলাকে তার এক সহযোগী মো. মনিরসহ গ্রেপ্তার করে। পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে ভোলার সম্পৃক্ততা ছিল। পরে অস্ত্র উদ্ধারের সূত্র ধরে এক সময় বাবুল আক্তারের সোর্স হিসেবে পরিচিত ভোলার নাম আরও আলোচনায় আসে। এরপর ২০১৬ সালের ২৭ জুন নগরীর বাকলিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সর্বশেষ অঞ্জলী রানী হত্যা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান এহতেশামুল হক ভোলা। ওই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে গত ১৯ আগস্ট আদালত আপিলটি খারিজ করে দেন।

পুলিশ সূত্র জানা যায়, অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাস বিরোধী পুলিশের বিশেষ অভিযানে এহতেশামুল হক ওরফে ভোলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার ভোলাকে একটি হত্যা মামলায় বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments