নিজস্ব সংবাদদাতা (চট্টগ্রাম) চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল চুরির একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছেন পুলিশ।
চট্টগ্রাম সহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলার চুরি করে সাগর পার হয়ে চলে যাচ্ছে সন্দ্বীপ উপজেলায়। সেখানে মোটরসাইকেলের মানভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে চুরির মোটরসাইকেল গুলো।
গত ২৫ মার্চ শনিবার চট্টগ্রাম মহানগরী ও সন্দ্বীপ উপজেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরির একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সাতকানিয়ার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বণিকপাড়ার মৃত ধনরাম ধরের ছেলে মিঠুন ধর (২৯), সন্দ্বীপের কালাপানিয়া এলাকার মো. শাহাজাহানের ছেলে মো. বাবর ওরফে বাবুল (৩৫), মো. শাহজাহানের ছেলে মো. শাহেদ (২৬), মৃত নুরুল আলমের ছেলে মো. রিপন (৪০) ও লোহাগাড়ার আমিরাবাদ এলাকার নুরুল আব্বাসের ছেলে মো. খোরশেদ আলম (২৯)। তাঁদের মধ্যে বাবর ও মিঠুন চক্রটির মূল হোতা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কোতোয়ালী থানার উপপরিদর্শক মোমিনুল হাসান জানান‘মোটরসাইকেলগুলোর মধ্যে ২৩টি উদ্ধার করা হয়েছে সন্দীপ উপজেলা থেকে। বাকি একটি মোটরসাইকেল চট্টগ্রাম মহানগরীর স্টেশন রোড এলাকা উদ্ধার করা হয়েছে।’
উপপরিদর্শক মোমিনুল হাসান বলেন, চট্টগ্রাম থেকে সন্দীপ সাগরপথে যেতে হয়। দুর্গম ও দ্বীপ এলাকা হওয়ায় সেখানে কেউ যেতে চায় না। এ জন্য চক্রটি চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল চুরির পর ওই উপজেলা বেছে নিয়েছে। মোটরসাইকেলগুলো তাঁরা নৌকায় করে সন্দীপে নিয়ে যায়। গ্রেপ্তার বাবর মূলত চট্টগ্রামে চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলগুলো সন্দীপে নিয়ে গিয়ে চক্রের অন্য সদস্যদের কাছে হ্যান্ডওভার করে। মোটরসাইকেলগুলো সেখানে পৌঁছার পর নম্বরপ্লেট খুলে কিংবা ভুয়া নম্বর লাগিয়ে পরে বিভিন্নজনের কাছে বিক্রি করা হয়।
মোমিনুল হাসান আরো জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, সন্দীপে অন্তত ২ হাজার মোটরসাইকেল চলছে, যেগুলোর কোনো নম্বরপ্লেট নাই। সেগুলো বেশির ভাগই চোরাই মোটরসাইকেল। এসব মোটরসাইকেল দিয়ে সেখানে যাত্রী পরিবহনও করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানায়,এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ২৪টি চোরাই মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।পুলিশ আরো জানান গ্রেপ্তারকৃত আসামি মিঠুন ধরের বিরুদ্ধে লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া থানায় তিনটি চুরির মামলা, বাবরের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী ও খুলশী থানায় মোটরসাইকেল চুরির দুটি মামলা এবং মো. খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় মোটরসাইকেল চুরির একটি মামলা রয়েছে।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবির বলেন মোটরসাইকেল উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,চোর চক্রের পাঁচ সদস্য গ্রেপ্তার পূর্বক বিভিন্ন মডেলের ২৪ টি বাইক উদ্ধার করা হয়,এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা রুজু করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।