চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ঈমন গ্রেফতার

0
7

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে পাঁচ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যশোর সীমান্ত এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসিয়ে চট্টগ্রাম ও যশোর জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনই শুটার। সম্প্রতি চট্টগ্রামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় ‘আমার নাম পুলিশ কমিশনারের কাছে জেনে নিন’ বলে আলোচনায় এসেছিলেন ডেভিড ইমন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত তিনটার দিকে যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার ধুমধুমপুর সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, যশোর থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার কৃষক মো. মুসার ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি হত্যা মামলাসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলারও তিনি আসামি।

পুলিশের ভাষ্য, ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের সঙ্গে ইমনের সম্পৃক্ততার তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল বলে পুলিশের দাবি।

বিদেশে পলাতক ও ইন্টারপোলের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ডেভিড ইমন। পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুই ব্যক্তির একজন তিনি। এর আগে এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি কারাগারে থাকায় বর্তমানে ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান চক্রটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বড় সাজ্জাদের দলে যোগ দেওয়ার পর একাধিক হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়ে তাঁর আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন ইমন। চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ ও পতেঙ্গা এবং রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলায় চক্রটির প্রভাব বেশি। এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে তারা।

সর্বশেষ নগরের চন্দনপুরা এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় আবারও আলোচনায় আসেন ডেভিড ইমন। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার আগে ফোন করে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন তিনি। হামলার সময় প্রতিষ্ঠানের মালিক তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে ডেভিড ইমন বলেন, তাঁর নাম পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে জেনে নিতে। ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here