Homeসাংস্কৃতিক ও বিনোদনভারত-বাংলাদেশের সুপরিচিত সাহিত্য-সারথী, সম্পাদিকা, কলামিস্ট, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যাভিনেত্রী, ছড়াকার, কণ্ঠশিল্পী ও...

ভারত-বাংলাদেশের সুপরিচিত সাহিত্য-সারথী, সম্পাদিকা, কলামিস্ট, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যাভিনেত্রী, ছড়াকার, কণ্ঠশিল্পী ও বিশিষ্ট কবি মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প: মনের ক্যানভাস।

 

মনের ক্যানভাস
-মাধুরী ব্যানার্জী

অর্পিতা ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকতে ভালোবাসত। কিন্তু তার আঁকার খাতা কখনোই শুধু রঙ আর রেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত না। সে বিশ্বাস করত, মানুষের মনও এক একটি ক্যানভাস—যেখানে সুখ, দুঃখ, আশা আর স্বপ্ন নানা রঙে আঁকা থাকে।
একদিন স্কুলে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন হলো। বিষয় ছিল—“আমার পৃথিবী”। সবাই পাহাড়, নদী, ফুল কিংবা শহরের ছবি আঁকতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। কিন্তু অর্পিতা বসে রইল চুপচাপ। তার সাদা কাগজ যেন তাকে কিছু বলতে চাইছিল।
অনেকক্ষণ পরে সে আঁকা শুরু করল। কাগজের মাঝখানে একটি বড় হৃদয়ের ছবি আঁকল। হৃদয়ের এক পাশে ছিল উজ্জ্বল রোদ, সবুজ গাছ আর হাসিমুখের মানুষ। অন্য পাশে ছিল কালো মেঘ, বৃষ্টিধারা আর কিছু নিঃসঙ্গ মুখ। তারপর দু’পাশকে যুক্ত করল একটি রঙিন সেতু দিয়ে।
প্রতিযোগিতা শেষে বিচারকরা ছবিগুলো দেখতে এলেন। অর্পিতার ছবির সামনে এসে তারা থমকে গেলেন।
একজন বিচারক জিজ্ঞেস করলেন, “এ ছবির অর্থ কী?”
অর্পিতা মৃদু হেসে বলল, “পৃথিবী শুধু আনন্দে ভরা নয়, আবার শুধু কষ্টেও নয়। মানুষের মনেই দুটো পাশাপাশি থাকে। ভালোবাসা আর আশা সেই দু’পাশকে যুক্ত করে রাখে। তাই আমি আমার পৃথিবীকে মনের ক্যানভাসে এঁকেছি।”
তার উত্তর শুনে সবাই মুগ্ধ হলো। সেদিন অর্পিতা প্রথম পুরস্কার পেল। কিন্তু পুরস্কারের চেয়েও বড় ছিল মানুষের প্রশংসা।
বাড়ি ফেরার পথে সে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবল, প্রতিটি মানুষের মনই এক বিশাল ক্যানভাস। সেখানে যদি ভালোবাসার রঙ ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে সবচেয়ে মলিন ছবিটাও একদিন সুন্দর হয়ে উঠবে।
মানুষের মনের ভাবনা ও অনুভূতিই তার পৃথিবীকে রঙিন বা বিবর্ণ করে তোলে। ভালোবাসা, আশা ও সহমর্মিতা জীবনের সবচেয়ে সুন্দর রং।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments