নিজস্ব প্রতিনিধি: (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানাধীন জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় স্হানীয় স্বসশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত র্যাব সদস্য হত্যা মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করছেন র্যাব-৭ চট্টগ্রাম।
র্যাব জানায়, বহুল আলোচিত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানাধীন জঙ্গল ছলিমপুরে র্যাব সদস্য জেসিও নায়েব আব্দুল মোতালেব হত্যাসহ একাধিক র্যাব সদস্য আহত এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর মামলার ২ আসামি’কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭চট্টগ্রাম।
গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ইং তারিখে আনুমানিক ১৬১৫ ঘটিকায় র্যাব-৭ চট্টগ্রামের একটি আভিযানিক দল চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল-সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষনা দিয়ে আনুমানিক ৪০০/৫০০ জন দুষ্কৃতিকারীরা র্যাব সদস্যদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। দুষ্কৃতিকারীদের অতর্কিত হামলায় র্যাবের চারজন সদস্য গুরুত্বর রক্তাক্ত আঘাত প্রাপ্ত হয়। পরবর্তীতে থানা পুলিশের সহযোগিতায় আঘাত প্রাপ্ত র্যাব সদস্যদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম সিএমএইচ-এ প্রেরণ করা হয়। চট্টগ্রাম সিএমএইচ-এর জরুরী বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক জেসিও নায়েব মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষনা করেন এবং অপর ৩তিনজন র্যাব সদস্য বর্তমানে চট্টগ্রাম সিএমএইচ-এ চিকিৎসাধীন রয়েছে। উক্ত নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হলে ব্যাপক আলোচিত হয়।
র্যাব-৭ চট্টগ্রাম বাদী হয়ে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড থানায় ২৯ জনকে এজাহারনামীয় এবং ১৫০/২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং-২৪, তারিখ-২২ জানুয়ারি ২০২৬ইং ধারা-৩৫৩/৩৩২/২২৪/২২৫/৩৩৩/৩০৭/৩৮৬/৩৬৪/৩৪২/৪২৭/ ৩০২/৩৪, পেনাল কোড-১৮৬০।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৭ চট্টগ্রাম সূত্রে বর্ণিত মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষে গোয়েন্দা নজরদারী এবং ছায়াতদন্ত শুরু করে। এবং (২২ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার আনুমানিক দুপুর একটার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে নগরীর বায়েজিদ থানাধীন ইকবাল কনভেনশন হল এলাকা থেকে সূত্রে বর্নিত মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. ইউনুছ আলী হাওলাদারকে এবং পতেঙ্গা থানাধীন ওয়াসা গলি এলাকা থেকে খন্দকার জাহিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন, পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানাধীন গোলাখালী গ্রামের সোনাম উদ্দিনের ছেলে মো. ইউনুছ (৬২), ও নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানাধীন মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত নবীন উদ্দিনের ছেলে খন্দকার জাহিদ হোসেন (৩৯)।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ.আর.এম মোজাফফর হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান,
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এবং হত্যাকান্ডে জড়িত অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।