মোঃ জয়নাল আবেদীন
কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ব্যাংকের এক নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে অনৈতিক প্রস্তাব ও শারীরিক হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পায়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিচ্ছন্নতাকর্মী।
এ ঘটনা জানাজানি হওয়ায় উপজেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ওই ব্যবস্থাপকের নাম মোহাম্মদ জুলকার নাইন। তিনি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও শাখা ব্যবস্থাপকদের দায়িত্ব ছিলেন। এরআগে গেল বছরের তাঁকে জেলার গোয়াইনঘাট ও বিয়ানীবাজারে দায়িত্বপালনকালে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
ভুক্তভোগী ওই পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, স্বামী না থাকায় একমাত্র মেয়েকে নিয়ে জীবন চালাতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করি। অনেক দিন ধরে কাজ করছি কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু জুলকার নাইন স্যার আসার পর থেকে আমি সমস্যায় পড়ে যায়। উনি আমার গায়ে হাত দেওয়াসহ আমাকে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানির চেষ্টা করে। আমার ছবি তুলেন। রাতের বিভিন্ন সময়ে আমাকে ফোন দিয়ে বিভিন্ন খারাপ কথাবার্তা বলতেন ও অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। আমি চাকরি হারানোর ভয়ে উনার সাথে কথা বলতাম। ছুটির দিনেও আমাকে অফিসে এসে একান্ত সময় দিতে বলতেন। এমনকি টাকাও অফার করেন।
একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু গেল বৃহস্পতিবার কতৃপক্ষ শাস্তি না দিয়ে বদলি করেছেন। আমি এ অফিসারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি চাই।
কোম্পানীগঞ্জ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার ও মাঠ সহকারীরা বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব ও বিভিন্ন সময়ে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেছেন। একজন অসহায় নারী সহকর্মীর প্রতি সিনিয়র কর্মকর্তার এমন দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই ঘটনায় অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে ভুক্তভোগী নারী আতঙ্কে আছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কতৃপক্ষ যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা।
তবে সদ্য বদলি হওয়া শাখা ব্যবস্থাপকের মোহাম্মদ জুলকার নাইন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, এবিষয়ে তদন্ত চলমান ছিল। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উনাকে বদলির আদেশ দিয়েছেন।