রাউজানে করিম হত্যা: ৪ আসামি গ্রেপ্তার, অস্ত্র-আলামত উদ্ধার

0
7

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে মোহাম্মদ করিম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় এলজি, এয়ার গান, কার্তুজ, চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ এ তথ্য জানায়।

পুলিশ জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় প্রকাশ্যে মোহাম্মদ করিমকে হত্যা করা হয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আসা একদল ব্যক্তি তাকে ঘিরে প্রথমে গুলি করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

নিহত করিম উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হলেও আমান বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে চুরি, মাদক, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ ১০টি মামলা রয়েছে।

ডিবির তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে পারভেজের মামা আজগরের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। ওই ঘটনায় পারভেজ করিমকে সন্দেহ করেন এবং মোটরসাইকেলটি ফেরত দিতে চাপ দেন। করিম চুরির সঙ্গে জড়িত নন বলে জানালে পারভেজ ক্ষুব্ধ হন।

পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পারভেজ তার সোর্সের মাধ্যমে কৌশলে করিমকে কেরানিহাট বাজার এলাকায় ডেকে আনেন। সেখানে পারভেজসহ অন্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে করিমকে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

তদন্তের অংশ হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য সংগ্রহ করে ডিবি। পরে চাঁদগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭) ও মো. জাবেদকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর খামারে অভিযান চালানো হয়। সেখানে সিমেন্টের তৈরি গামলার মধ্যে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা একটি দেশীয় এলজি, একটি এয়ার গান, দুই রাউন্ড ১২ বোরের সীসা কার্তুজ, একটি চাপাতি ও একটি লোহার গ্রিল কাটার উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদার্শা এলাকা থেকে মো. সেলিম (৫০) ও মো. আলামিনকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন—রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের মো. সেলিম, সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর, মো. জাবেদ ও মো. আলামিন। তাদের মধ্যে সেলিমের বিরুদ্ধে একটি চুরি মামলা, জাবেদের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা এবং আলামিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের দুটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মামলার অন্যতম পলাতক আসামি মো. পারভেজের বিরুদ্ধেও রাউজানসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, নারী ও শিশু নির্যাতন, বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

পলাতক পারভেজসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here